জাতীয়

অনলাইনে আউট তারেক-ফেরারি আসামির বক্তব্য মিডিয়া থেকে সরাতে নির্দেশ হাইকোর্টের

 

কোর্ট রিপোর্টার : তারেক-রহমানের-বক্তব্য-অনলাইন-থেকে-সরাতে-বিটিআরসিকে-নির্দেশ-হাইকোর্টের-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সংক্রান্ত রুলের শুনানি নিয়ে সোমবার বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে এই নির্দেশ দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যসহ সব ধরনের অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক দেয়া বক্তব্য সরাতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

এ সংক্রান্ত রুলের শুনানি নিয়ে সোমবার বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) এই নির্দেশ দেয়।আদালতের এ আদেশের সময় বিএনপির আইনজীবীরা হট্টগোল করলে বিচারকরা এজলাস থেকে নেমে যান।

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামরুল ইসলাম, সাঈদ আহমেদ রাজা ও সানজিদা খানম। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। আর বিএনপির আইনজীবী ছিলেন এজে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, কায়সার কামাল, মাহবুব উদ্দিন খোকন, রুহুল কুদ্দস কাজল।

আইনজীবী কামরুল ইসলাম বলেন, নয়াপল্টনের জনসভায় তারেক রহমানের বক্তব্য মাইকে প্রচার করা হয়। ইদানিং খুব বেশি রকমভাবে প্রচারিত হচ্ছে, আদালতের আদেশ ভায়েলেট করে। যার জন্য আমরা বিটিআরসির প্রতি একটা নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করেছি।আদালত আবেদনটি অ্যালাউ করেছে; বিটিআরসির প্রতি নির্দেশনা দিতে যেন, ইউটিউব, সামাজিক সব মাধ্যমে তারেক রহমানের বক্তব্য বিবৃতি ভিডিও অডিও প্রচার বন্ধে পদক্ষেপ নেয়।

হট্টগোল নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ওরা অযাচিতভাবে কোর্টের কার্যাকলাপকে বাধাগ্রস্থ করার চেষ্টা করছে। তারা কোনোভাবে পার্টি না (মামলায় পক্ষভুক্ত না)। তারা আজকে ন্যাক্কারজনক কাজ করছে। গত ১৩ আগস্ট তারেক রহমানের সংশোধিত ঠিকানায় নোটিশ পাঠাতে বলেছিল হাইকোর্ট। ওই নোটিশ জারির পর অনলাইন থেকে তারেক রহমানের বক্তব্য সরাতে আবেদন করেন রিট আবেদনকারী। এরপর সোমবার আদেশ দেয় হাইকোর্ট।

জানা যায়, রুল শুনানির জন্য সেকশন থেকে যে নোটিশ পাঠানো হয়, সেখানে তারেক রহমানের ঠিকানা ভুল লেখা হয়েছে। রোড নম্বরের জায়গায় রুম নম্বর হয়েছে। এরপর সংশোধিত ঠিকানা জমা দেন রিটকারীরা।এর আগে ২০১৫ সালের ৬ জানুয়ারি আইনজীবী নাসরিন সিদ্দিকী লিনা হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেন। রিটে কোনো পত্রিকা, ইলেট্রনিক মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসে তারেক রহমানের কোনো বক্তব্য প্রকাশ, প্রচার, সম্প্রচার, পুনঃউৎপাদন না করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তথ্য সচিবের প্রতি নির্দেশনা চেয়েছিলেন।

রিটে বলা হয়, তারেক একজন ফেরারি আসামি। তিনি সংবিধান লঙ্ঘন করে ও বেআইনিভাবে বক্তব্য দিচ্ছেন। একজন ফেরারি আসামির বক্তব্য মিডিয়ায় প্রচার হতে পারে না। যাকে আদালত খুঁজে পাচ্ছেন না, তার বক্তব্য প্রচারযোগ্য নয়। পরদিন রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তারেকের বক্তব্য প্রচার ও প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রুল জারি করে।

রুলে তারেক রহমানের বক্তব্য প্রকাশ ও প্রচার নিষিদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন বিবাদীদের নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। তথ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, আইনসচিব, পররাষ্ট্রসচিব, আইজিপি, বিটিভির মহাপরিচালক, বিটিআরসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে সেই দিন রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সাহারা খাতুন (প্রয়াত), আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ূন, আইনজীবী শ ম রেজাউল করিম (বর্তমানে মন্ত্রী), আইনজীবী এস এম মুনীর (বর্তমানে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল), আইনজীবী সানজিদা খানম (তৎকালীন এমপি)। সম্প্রতি এই রুল শুনানির জন্য উদ্যোগ নেয় রিটকারী পক্ষ।

 

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button