গনমাধ্যম

মার্কিন সরকার বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে-এডিটরস গিল্ডের উদ্বেগ

 

ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ওপরও ভিসা নীতি প্রয়োগ হতে পারে- ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এমন মন্তব্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শীর্ষ সম্পাদকদের সংগঠন এডিটরস গিল্ড বাংলাদেশ।
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য যথেষ্ট স্বচ্ছ নয় এবং এর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়ে বুধবার এক বিবৃতি প্রকাশ করেছে সংগঠনটির সভাপতি মোজাম্মেল হক (বাবু) ও সাধারণ সম্পাদক ইনাম আহমেদ।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের একটি সাম্প্রতিক মন্তব্য আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ২২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্বল করার জন্য দায়ি বা জড়িত ব্যক্তিদের ওপর ভিসা নীতি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্টভাবে বলেছে, এই ব্যক্তিদের মধ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, ক্ষমতাসীন দল এবং রাজনৈতিক বিরোধী দলের সদস্য রয়েছেন। ঘোষিত নীতিমালায় গণমাধ্যম ও গণমাধ্যম পেশাজীবীদের বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি।

কিন্তু হঠাৎ করেই ২৪ সেপ্টেম্বর মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস একটি সাক্ষাৎকারে জানান যে, বাংলাদেশের গণমাধ্যমও মার্কিন ভিসা নীতির আওতায় আসতে পারে। এই তথ্য প্রকাশের ফলে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে যে, মার্কিন সরকার হয় বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে অথবা গণমাধ্যমের পেশাদারদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।’

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে গণমাধ্যমের বহুত্ব দৃঢ়ভাবে দৃশ্যমান। কারণ, গণমাধ্যম সংখ্যায় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বিভিন্ন মত প্রকাশের ক্ষেত্র তৈরি করছে। বাংলাদেশের গণমাধ্যম কখনোই সুশাসন, গণতন্ত্র ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে দাঁড়ায়নি। এখানে এমন অনেক রাজনৈতিক, সামাজিক এবং ধর্মীয় প্রেক্ষাপট রয়েছে যার মধ্যে গণমাধ্যমের পেশাদাররা কাজ করার জন্য লড়াই করছে যা পশ্চিমা সমাজে হয় না।

বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব মতপার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশের সাংবাদিকরা প্রাক-নির্বাচনী ঘটনা কভার করছেন এবং বিবদমান দলগুলোর কোনো পক্ষ না নিয়েই টিভি চ্যানেল, সংবাদপত্র এবং অনলাইন পোর্টালসহ নির্বাচনকে একাধিক ফরম্যাটে কভার করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

বিবৃতি আরও বলা হয়, ‘আমরা জানতে চাই, কী কারণে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে অবজ্ঞা করেছেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য স্বচ্ছ নয়। এর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

সাংবাদিকদের ওপর ভিসা বিধিনিষেধ প্রয়োগ নিয়ে রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যকে জনগণের কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করার এবং গণমাধ্যমের ওপর অদৃশ্য সেন্সরশিপ আরোপ করার একটি প্রচেষ্টা হিসাবে দেখা যেতে পারে। যা গণতন্ত্র ও সুশাসনের প্রধান স্তম্ভ বাকস্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নীতির পরিপন্থি।’

গত ২৪ মে নতুন ভিসানীতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। ঘোষণায় বলা হয়েছিলো, বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী বা জড়িত ব্যক্তিদের ভিসা দেবে না দেশটি। ওই ঘোষণার প্রায় চার মাস পর ২২ সেপ্টেম্বর থেকে রাজনীতিকসহ কয়েকটি শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্র।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ভিসা নীতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেছেন, গণমাধ্যমের ওপরও এটি প্রয়োগ হতে পারে।

তবে সোমবার ওয়াশিংটনে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার বলেন, কাদের ওপর ভিসা নীতি প্রযোজ্য হবে সেটি এরইমধ্যে স্পষ্ট করা হয়েছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলীয় সদস্যদের ওপরই এটি প্রযোজ্য হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button