অপরাধঅর্থনীতি

হাতবদলে নাই ১২০ কোটি

খাদ্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কারিশমা

 

বিশেষ প্রতিনিধি : টিসিবির পণ্য বিক্রিতে মন্ত্রণালয়ের হাত বদলে নাই হয়ে যাচ্ছে ১২০ কোটি টাকা। সবার চোখের সামনে এই কমিশন হাত বদল হচ্ছে। খাদ্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এর উর্ধ্বতণ কর্মকর্তারা সবাই এটা জানে। কিন্তু নিজেদের কমিশনের স্বার্থে সবাই নিশ্চুপ। অথচ একটু স্বদিচ্ছা থাকলে সরকারের এই বিপুল অংকের টাকা সাশ্রয় হতো। কিন্তু তা হচ্ছেনা। এক্ষেত্রে প্রতি বছরে ‘অপচয়’ হচ্ছে ৬০ কোটি টাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুই মন্ত্রণালয় মিলে চাল বিক্রি করায় সরকারের ১২০ কোটি টাকা হাতবদল হয়ে যাচ্ছে। ওএমএস চাল টিসিবিতে এসে হাত বদল হলেই প্রতিমাসে ১ কোটি ফ্যামিলি কার্ডের বিপরীতে বাড়তি কমিশন গুনতে হয় ১০ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে বছর শেষে দাঁড়ায় ১২০ কোটি টাকা। অথচ, হাত বদল না হলে এই পুরো টাকাই সাশ্রয় হতো। অর্থনীতিবিদদের মতে, ডিলারদের বাড়তি সুবিধা দিলেও বছরে অন্তত ৬০ কোটি টাকা কমবে সরকারি ব্যয়।

জানা গেছে, পণ্য বিক্রি করেন টিসিবির ডিলার অথচ কমিশন পান ওএমএস-এর ডিলার। বাণিজ্য ও খাদ্য মন্ত্রণালয় মিলে ভর্তুকিমূল্যে চাল বিক্রি কার্যক্রমে এমন ঘটনা ঘটছে দীর্ঘদিন ধরে। এখান থেকে খুব সহজেই বছরে কমপক্ষে ৬০ কোটি টাকা বাঁচানো সম্ভব বলে একমত ডিলারদেরও।

টিসিবির পণ্য কিনতে এসে বরাবরই বরাদ্দ বাড়ানোর দাবির কথা বলে থাকেন ফ্যামিলি কার্ডধারীরা। তাদের স্বস্তি দিতে গেল জুলাই থেকে প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে ৫ কেজি করে চাল বিক্রি করে আসছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। যেখানে টিসিবি’র ডিলারের কাছে আঞ্চলিক গুদাম থেকে পণ্যটি পৌঁছে দেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ওএমএস’র ডিলার।ওএমএস-এর এক কর্মী বলেন, আমাদের কাজ হলো গোডাউন থেকে পণ্যটা গাড়িতে লোড করে টিসিবির ডিলার পর্যন্ত পৌঁছে দেয়া। তিনি জানান, প্রতি কেজি পণ্য পরিবহনে তাদের কমিশন দুই টাকা।

অনুসন্ধানে মিলেছে, এই চাল বিক্রিতে গেল তিন মাসে সরকারের বাড়তি ব্যয় হয়েছে ৩০ কোটি টাকা। ওএমএস-এর এক কর্মী জানান, প্রতি কেজি পণ্যে ২ টাকা করে কমিশন পান তারা। এই চালই যখন আবার বিক্রি হচ্ছে টিসিবি’র মাধ্যমে; তখন কমিশন বাড়ছে আরেক দফা।গোডাউন থেকে সুবিধাভোগীর কাছে পণ্য পৌঁছতে কমিশন গুনতে হয় দুই দফা। আর এটাই হচ্ছে হাতবদল। ওএমএস-এর আরেক কর্মী বলেন, আমরা পৌঁছে দিয়ে কেজিতে ২ টাকা করে পাই। আর তারা বিক্রি করে ২ টাকা করে কমিশন পায়।

ওএমএস-এর মাধ্যমে যেখানে কেজিতে ২ টাকা কমিশন দিয়েই বিক্রি কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে; সেখানে কেনো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সেই চাল আলাদাভাবে বিক্রি করতে গিয়ে কেন খরচ করছে দ্বিগুণ? এক্ষেত্রে বিষয়টা পরিস্কার-এটা হচ্ছে ‘কমিশন’। যেটা যে যার মত নিচ্ছে-বলে সবাই নিশ্চুপ।

অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর বলেন, এখানে সবচেয়ে বড় ব্যাপারটি হলো অপচয়। একই সেবা দেয়ার জন্য দুইবার খরচ করার কোন মানে হয় না। দুই বার যে খরচটা হচ্ছে সেটা তো আসলে জনগণের করের টাকা থেকেই খরচ হচ্ছে। আমরা এখন খাদ্য মন্ত্রণালয়কে প্রতি কেজিতে ২ টাকা দিচ্ছি আবার টিসিবিকেও ২ টাকা দিচ্ছি। কিন্তু সেটা না করে আমরা যদি ২ টাকা এবং ১ টাকাও করতে পারি তাহলে খরচ অনেকটা কমে আসবে।সহজ সরল এই হিসাবের বাইরে রয়েছে ওএমএস ও টিসিবি’র বিক্রি কার্যক্রমে অস্বচ্ছতা ও দুর্নীতিতে ভরা অপচয়ের হিসাব।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button