রাশেদ খানের দাবি সেনাবাহিনী ‘মব’ সৃষ্টি করছে

স্টাফ রিপোর্টার : সেনাবাহিনীর কতিপয় সদস্যরা আমাদের ওপর হামলা করল। এই হামলার ঘটনাকে সেনাবাহিনী বলছে ‘মব’।কিন্তু আমরা বলছি না-এটা সেনাবাহিনীর সৃষ্টি। এজন্য আমরা আইএসপিআরের বিবৃতি প্রত্যাখ্যান করছি। রাজধানীর বিজয় নগরে গণধিকার পরিষদের অফিসের সামনে সভাপতি নুরুল হক নূরের ওপর হামলা ঘটনাকে ‘মব’ বলতে নারাজ গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন।তিনি বলেন, এ ঘটনার পর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) যে বিবৃতি দিয়েছে সেটি আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
রাশেদ খাঁন বলেন, সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, আমাদের ওপর যে হামলা হয়েছে এটা নাকি ‘মব’! তাহলে ‘মব’ কে করেছে? সেনাবাহিনী, নাকি আমরা? আমরা আমাদের কার্যালয়ের সামনে যেখানে প্রেস ব্রিফিং শুরু করেছি, আমাদের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেওয়ার সঙ্গে আমরা সাংবাদিক সম্মেলন শেষ করবো। আমরা যখন ব্রিফিং করছি তখন সেনাবাহিনীর কতিপয় সদস্যরা আমাদের ওপর হামলা করল। এই হামলার ঘটনাকে সেনাবাহিনী বলছে ‘মব’। এটা কোনোভাবেই ‘মব’ হতে পারে না। যদি মব হয়েই থাকে, তাহলে সেই মব সৃষ্টি করেছে সেনাবাহিনীর কতিপয় সদস্য। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে আমরা সেটিকে প্রত্যাখ্যান করছি। এছাড়া আমাদের কার্যালয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে এবং ভেতরে ঢুকে আমাদের নেতাকর্মীদের রক্তাক্ত করেছে। এটাকে যদি মব বলেন। তাহলে সেই মব করেছে সেনাবাহিনী।
তিনি আরও বলেন, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রায় শতাধিক নেতাকর্মীর ওপর রক্তাক্ত করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। বিভিন্ন মিডিয়াতে এসেছে কীভাবে গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ে ভাঙচুর করেছে সেনাবাহিনী। সে সময় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা ভয় এবং আতঙ্কে বাথরুমের মধ্যে আশ্রয় নিয়েছিল। সেই বাথরুমের দরজা ভেঙে তাদের বের করে রক্তাক্ত করেছে নেতাকর্মীদের। আমার নিজের কাছে লজ্জা লাগছে সেনাবাহিনীর নাম আমার মুখে নেওয়া লাগছে। সেনাবাহিনী আমাদের গর্বের প্রতিষ্ঠান। যে প্রতিষ্ঠানের গণঅভ্যুত্থানের ভূমিকা আছে। সেই প্রতিষ্ঠানের কতিপয় ব্যক্তিকে রক্ষা করার জন্য সেনাবাহিনীর পুরো বাহিনীকে কলুষিত করা হচ্ছে।
আমরা সেনা প্রধানকে আহ্বান জানিয়েছি আপনি যদি এই ঘটনার দায় নিতে না চান, এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই সেনা আইনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আমরা ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছিলাম, এর মধ্যে এখনো সেনাপ্রধান তার অবস্থান স্পষ্ট করেননি। কেন তিনি তার অবস্থান স্পষ্ট করছেন না, সেটি আমাদের কাছে অত্যন্ত উদ্বেগের। আমরা সেনাপ্রধানকে আবারও বলতে চাই, আপনি অনতিবিলম্বে আমাদের ওপর যে হামলা হয়েছে সেই হামলায় আপনার অবস্থান স্পষ্ট করুন।