বিনোদন

ইভ্যালির টাকার মেশিন’রা নজরবন্দী


বিশেষ প্রতিনিধি : ইভ্যালির টাকার মেশিন তাহসান মিথিলা ফারিয়া নামের তারকা ভেলকিবাজরা এবার নজরবন্দী। ইভ্যালির ফাঁদে ফেলতে মানুষকে প্রভাবিত করাসহ প্রতারণায় সহযোগীতার অভিযোগে যে কোন সময় গ্রেফতার হচ্ছেন বর্তমানের জনপ্রিয় অভিনেতা তাহসান মিথিলা এবং শবনম ফারিয়া। ই-কমার্স সংস্থা ইভ্যালির হয়ে তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে মামলা হয়েছে।এর আগে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইভ্যালির শীর্ষ কর্মকর্তারা গ্রেফতার হয়ে জেলে রয়েছেন। এই মামলাতেই যে কোনো সময় অভিনেত্রী মিথিলা, শবনম ফারিয়া এবং গায়ক-অভিনেতা তাহসান গ্রেফতার হচ্ছেন। শোনা যাচ্ছে, তিন তারকাকেই জেরা করা হবে। প্রয়োজনে যে কোনও সময়ে গ্রেফতারও হতে পারেন তাঁরা!

গত ৪ ডিসেম্বর ঢাকার একটি আদালতে এই তিন তারকা-সহ মোট ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন সাদ স্যাম রহমান নামে এক প্রতারিত গ্রাহক। তদন্তের জন্য বিষয়টি ধানমন্ডি থানায় পাঠিয়েছে আদালত। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মিথিলা, শবনম এবং তাহসান, তিন জনকেই জেরার পরে প্রয়োজনে গ্রেফতার করা হতে পারে। ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে।

তাহসান, মিথিলা এবং শবনম ফারিয়া ওই ই কমার্স সংস্থার সঙ্গে বিভিন্ন ভাবে যুক্ত ছিলেন। জানা গিয়েছে, সংস্থার শুভেচ্ছাদূত ছিলেন রাফিয়াত রশিদ মিথিলা এবং গায়ক-অভিনেতা তাহসান খান। শবনম ফারিয়া ছিলেন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটির প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা। মামলাকারী গ্রাহকের অভিযোগ, খ্যাতনামী মানুষেরা সংস্থার মুখ হওয়ায় তাঁরা অনেকেই প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করেছিলেন।

সংবাদমাধ্যমকে ডিসি সাজ্জাদুর রহমান বলেছেন, ‘‘আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন ও বেশি মুনাফার লোভ দেখিয়ে অসংখ্য গ্রাহককে পথে বসিয়েছে ওই সংস্থা— এমন অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। নামী-দামি তারকাদের যুক্ত করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। জনপ্রিয় তারকাদের দেওয়া মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পা দিয়েই সর্বস্বান্ত হয়েছেন গ্রাহকেরা, অভিযোগ এমনই। এ বার তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন সাদ স্যাম রহমান নামে একজন ভুক্তভোগী। তদন্তের স্বার্থে যে-কোন‌ও সময় তাহসান, মিথিলা ও শবনম ফারিয়ারা গ্রেফতার হতে পারেন।

কয়েকশো কোটি টাকা প্রতারণায় অভিযুক্ত ওই ই-কমার্স সংস্থা। উল্লেখ্য, ওই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে টাকা দিয়ে পণ্য অর্ডারের পর পাঁচ মাস পরেও পণ্য হাতে পাননি এক গ্রাহক। ফেরত পাননি টাকাও। অভিযোগ জানিয়ে হাইকোর্টে ওই সংস্থাটি বন্ধের আবেদন জানিয়েছিলেন এক গ্রাহক। গত মাসের মাঝামাঝি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহম্মদ রাসেল এবং চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে টাকা আত্মসাতের মামলায় গ্রেফতার করে র‍্যাব। বর্তমানে জেলে রয়েছেন দু’জনেই। তাঁদের গ্রেফতারির পরে নিজেদের দফতরগুলি বন্ধ করে দেয় সংস্থা।

ডিসি আরও জানান, গুরুত্ব দিয়ে মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে।ওই সময় প্রতারিত হওয়ার আগে যেকোনো প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ভালো করে খবর নেয়ার পরামর্শ দেন পুলিশের জ্যেষ্ঠ এ কর্মকর্তা। ধানমন্ডি থানার মামলায় আসামি করা হয়েছে নয়জনকে। অন্য মামলায় কারাবন্দি ইভ্যালির এমডি রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমাও এ মামলার আসামি।প্রতারণার মামলাটিতে পাঁচ নম্বর আসামি করা হয়েছে তাহসানকে। আট ও নয় নম্বর আসামি করা হয়েছে শবনম ফারিয়া ও মিথিলাকে।মামলার এজাহারে বাদী বলেন, ইভ্যালি থেকে ৩ লাখ ১৮ হাজার টাকায় মোটরসাইকেল অর্ডার করেও পাননি তিনি।

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Back to top button