অর্থনীতি

সিটি ব্যাংক দিচ্ছে ১ ক্লিকেই ২০ হাজার

 

বিশেষ প্রতিনিধি : এবার সিটি ব্যাংক নিয়ে এলো সকল বিকাশ গ্রাহকের জন্যে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সহায়তা। এই ঋণের জন্য কোনো জামানত লাগবে না। ঋণ আবেদনে কোনো নথিপত্র জমা দিতে হবে না।বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে ক্লিক করার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পাওয়া যাবে ঋণ। এটাকে ‘ডিজিটাল ন্যানো লোন’ বলছে বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠিত এই ব্যাংকটি।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন সেবা চালু থাকলেও এতদিন ঋণ নেয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। কিন্তু মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (এমএফএস) বিকাশের গ্রাহকেরা এখন থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষুদ্রঋণ নিতে পারবেন।
বছরব্যাপী পাইলট প্রকল্প সফলভাবে শেষ করার পর দেশে প্রথমবারের মতো জামানতবিহীন ইনস্ট্যান্ট ডিজিটাল ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে এসেছে সিটি ব্যাংক; যা বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে নিতে পারবেন বিকাশ গ্রাহকেরা।

৯ শতাংশ সুদে ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মিলবে। ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ৩ মাস। ৩টি মাসিক কিস্তিতে বিকাশ অ্যাপ থেকেই ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন ঋণগ্রহীতারা। বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু ফরাহ মো. নাছের ও সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার।

অনুষ্ঠানে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাসরুর আরেফিন এবং বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর, ব্যাংকের ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের প্রধান জাফরুল হাসান, বিকাশের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার আলী আহম্মেদসহ দুই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ঋণে দৈনিক হারে সুদহার নির্ধারিত হবে। ফলে একজন ঋণগ্রহীতা মেয়াদ পূর্তির আগেও ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন এবং সে ক্ষেত্রে তাকে শুধু সেই কয়েক দিনের জন্যই সুদ বহন করতে হবে। অগ্রিম নিষ্পত্তির জন্যও কোনো বাড়তি খরচ হবে না। ঋণগ্রহীতাদের নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ঋণ পরিশোধের নির্দিষ্ট তারিখ জানিয়ে দেয়া হবে।

গ্রাহকের বিকাশ লেনদেন এবং সিটি ব্যাংকের ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট পলিসির ওপর ভিত্তি করে ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা এবং ঋণের পরিমাণ নির্ধারিত হবে। সিটি ব্যাংক ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত কোনো প্রসেসিং ফি নেবে না।

ঋণ নেয়ার জন্য উপযোগী গ্রাহককে তাদের বিকাশ অ্যাপের ‘ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লোন’ আইকনে ট্যাপ করতে হবে। পরবর্তী ধাপে সিটি ব্যাংক অনুমোদিত সীমার মধ্যে কাঙ্ক্ষিত ঋণের পরিমাণ লিখতে হবে এবং শর্তাবলিতে সম্মতি দিতে হবে। এরপর বিকাশ পিন দিলে সঙ্গে সঙ্গেই ঋণপ্রাপ্তির যোগ্যতাসাপেক্ষে বিকাশ অ্যাকাউন্টে ঋণের টাকা পেয়ে যাবেন গ্রাহক।

প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ডিজিটাল ন্যানো লোন দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে একটি যুগান্তকারী সংযোজন। এর ফলে ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা একটি বিশাল জনগোষ্ঠী কাগজবিহীন ডিজিটাল পদ্ধতিতে ঋণপ্রাপ্তির যোগ্যতা বিবেচনায় তাৎক্ষণিক ঋণ পাওয়ার সুযোগ পেলেন।

তিনি বলেন, যেকোনো স্থান থেকে যেকোনো সময় মোবাইল অ্যাপ দিয়েই একটি প্রতিষ্ঠিত বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে ঋণের আবেদন করা এবং মোবাইল অ্যাপেই ঋণ পাওয়ার সুযোগ গ্রাহককে সত্যিকার অর্থেই আর্থিক লেনদেনে আরও স্বাধীনতা ও সক্ষমতা এনে দিল। এই উদ্যোগ বাংলাদেশ সরকারের “ডিজিটাল বাংলাদেশ” ভিশন বাস্তবায়নের পথেও একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।ডিজিটাল ব্যবস্থা সব সময়ই স্বচ্ছভাবে কাজ করে। ক্ষুদ্র ঋণদাতারা সময়মতো ঋণ পরিশোধ করে। প্রযুক্তির মাধ্যমে ঋণ প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে যাবে।

ডেপুটি গভর্নর আবু ফরাহ মো. নাছের বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরে সুবিধাবঞ্চিত মানুষ আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় সুবিধাপ্রাপ্ত হবেন। আর ক্ষুদ্র এ সঞ্চয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।ব্যাংকিং খাতের প্রধান সমস্যা খেলাপি ঋণ। আর এই খেলাপি ঋণ এ দেশের সংস্কৃতির একটি অংশ হয়ে গেছে’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমরা খেলাপি ঋণ থেকে বের হতে চাই। খেলাপি ঋণ না থাকলে ঋণের ৯ শতাংশ সুদ দিয়েও লাভ করা সম্ভব। খেলাপি গ্রাহক যেন অন্য কোনো ঋণ না পায় এ জন্য ব্যাংকারদের মেকানিজমে যেতে হবে।

ডিজিটাল ব্যাংক গঠনের জন্য নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে আবু ফরাহ মো. নাছের বলেন, ডিজিটাল ব্যাংক গঠিত হলে সেবা দেয়ার জন্য মোবাইলে আর্থিক সেবার নেটওয়ার্ক ব্যবহৃত হবে। আগামী বছরের মধ্যে এই প্রক্রিয়া আলোর মুখ দেখতে পারে।

সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার বলেন, এই লোন নিতে গ্রাহকদের ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট থাকার কোনো প্রয়োজন পড়বে না। তারা নিজ নিজ বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই এই লোন নিতে ও পরিশোধ করতে পারবেন।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আপনি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সঞ্চয়টাকে ডিপোজিট হিসেবে নেয়ার জন্য এজেন্ট ব্যাংক খুলবেন, তাদের টাকা ট্রান্সফার করে এমএফএস ব্যবসা করবেন, কিন্তু তাদের বিশ্বাস করে তাদেরকে ঋণসুবিধা দেবেন না, সেটা তো নৈতিকভাবে ঠিক হলো না। ডিজিটাল ন্যানো লোনের যুগে সিটি ব্যাংক ও বিকাশের এই পদার্পণ আমাদের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশনে নৈতিক ঘাটতির মোচন ঘটাল।

বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর বলেন, ব্যাংক ও এমএফএসের মধ্যে আন্ত লেনদেন সেবার কল্যাণে অনেক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। বিকাশের মতো কার্যকর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও বিশাল গ্রাহক ভিত্তিকে ব্যবহার করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সৃজনশীল নতুন নতুন সেবা চালু করতে পারে। এতে গ্রাহকের কাছে আরও সহজে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে।

 

 

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button