লিড নিউজ

‘ইসি গঠনে আইন চাই’

বিশেষ প্রতিনিধি : নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের আগেই আইন প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছে সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। সোমবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির প্রতিনিধিদলের পক্ষ এসব প্রস্তাব দেওয়া হবে। বঙ্গভবনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের নেতৃত্বে সংলাপে অংশ নেন ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। বিকাল ৪টা থেকে প্রায় ২ ঘণ্টা এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

সংলাপ শেষে বেরিয়ে জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বৈঠক করেছি। আমার রাষ্ট্রপতিকে ৩টি প্রস্তাব দিয়েছি। সংবিধানের আলোকে আইন প্রণয়ন করে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে কথা বলেছি। আমরা মনে করি, যে সময় আছে তার মধ্যে আইন তৈরি করা সম্ভব। প্রয়োজনে আইন তৈরি করতে প্রস্তুত আছি। সরকার চাইলে আমরা আইনটিও তৈরি করে দিতে পারি।

জিএম কাদের আরও বলেন, সরকার যদি মনে করে এখন আইন করা সম্ভব নয়, তাহলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করে করতে পারেন। পরবর্তী সময়ে সেটি আইনে পরিণত করা যাবে। আর যদি অধ্যাদেশ জারি করা সম্ভব না হয়, তাহলে আগের মতো সার্চ কমিটি গঠন করা হলে আমরা ৪ জনের নামের প্রস্তাব দিয়েছি। তবে এখনই আমার দেওয়া নামগুলো আপনাদের জানাচ্ছি না।নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন নিয়ে এবার তৃতীয়বারের মতো রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করে বলেন করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন সম্ভব হবে এবং নতুন নির্বাচন কমিশন জাতীয় নির্বাচনসহ সকল নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পাদন করতে সক্ষম হবে। তিনি এ ব্যাপারে সকল রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের সহযোগিতা কামনা করেন।

এর আগে, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বঙ্গভবনে তাদের স্বাগত জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ ফেব্রুয়ারি মাসেই শেষ হবে। তার পূর্বেই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনার এই উদ্যোগ। এসময় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহ উদ্দিন ইসলাম, রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন এবং সচিব (সংযুক্ত) মো. ওয়াহিদুল ইসলাম খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রথমবার ২০১১ সালের ২২ ডিসেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিল্লুর রহমান বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপে ডাকেন। দ্বিতীয়বার ২০১৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সংলাপ শুরু হয়, চলে ২০১৭ সালের ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। বঙ্গভবনে পর্যায়ক্রমে মোট ৩১টি রাজনৈতিক দল এই সংলাপে অংশ নেয়।উল্লেখ্য, বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি। পরদিন নতুন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণ করবে।

এর আগে রাষ্ট্রপতি ২০ জানুয়ারির মধ্যে নতুন সার্চ কমিটি গঠন করবেন। এই সার্চ কমিটি রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে নতুন কমিশন গঠনে সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রস্তুত করবে। সার্চ কমিটি রাষ্ট্রপতির কাছে সিইসির জন্য দুইজন, চারজন নির্বাচন কমিশনারের জন্য ৮ জনের নাম প্রস্তাব করবে। পরে সার্চ কমিটির প্রস্তাবিত মোট ১০ জনের নামের তালিকা থেকে একজন সিইসি ও ৪ জন নির্বাচন কমিশনার চূড়ান্ত করবেন রাষ্ট্রপ্রধান।

 

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button