অপরাধ

ঢাবি অধ্যাপককে সাইদা খুনী আনারুল আদালতে

গাজীপুর প্রতিনিধি : ঢাবি অধ্যাপককে সাইদা গাফ্ফার খুনী আনারুল কে রিমান্ডে নিতে আদালতে তোলা হয়েছে। নগদ টাকার লোভে লেবারদের জিঘাংসায় নিহত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সাইদা গাফফার। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার রাজমিস্ত্রি আনারুল ইসলামকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আনারুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তারকৃত রাজমিস্ত্রি আনারুল ইসলামসহ অজ্ঞাতদের আসামি করে কাশিমপুর থানায় মামলা দায়ের করেন নিহতের ছেলে সাউদ ইফখার বিন জহির। জানা গেছে, বাড়ি নির্মাণকারী মালিকের টাকা লুট করতেই তাকে হত্যা করে লেবাররা।

গাজীপুরের কাশিমপুর ইউনিয়নের পানিশাইল এলাকার একটি আবাসন প্রকল্প থেকে আজ শুক্রবার ১৪ জানুয়ারী দুপুরে অধ্যাপকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অধ্যাপকের নতুন আবাসনের এক লেবার (রাজমিস্ত্রী) কে পুলিশ ঢাকার বাইরে গাইবান্ধা জেলা থেকে গ্রেফতার করেছে। ওই কর্মীর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অধ্যাপকের লাশের সন্ধান মিলে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায় স্বীকার করেছে ওই যুবক। তবে কারণ এখনও জানা যায়নি। তার দেয়া তথ্যে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সাইদা খালেককে হত্যার অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের গাইবান্ধা জেলা থেকে শুক্রবার সকালের দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে বলে নিজের দায় স্বীকার করেছে ওই যুবক। তার দেয়া তথ্যে গাজীপুরের কাশিমপুর ইউনিয়নের পানিশাইল এলাকার একটি আবাসন প্রকল্প থেকে শুক্রবার দুপুরে অধ্যাপকের মরদেহ উদ্ধার হয়। আটক যুবকের নাম আনোয়ারুল ইসলাম। আনোয়ারুল সাবেক ওই অধ্যাপকের নতুন বাড়ি নির্মাণে কাজ করতেন। তাকে ঢাকায় আনা হচ্ছে। আনোয়ারুলের সঙ্গে আর কে কে ছিল তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

জানা গেছে, নিহত সাইদা খালেকের বয়স ৭১। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসরে যান ২০১৬ সাল। গত ১১ জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। কাশিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবে খোদা বলেন, ওই অধ্যাপক যে বাসায় ভাড়া থাকতেন তার পাশের জমিতে তিনি বাড়ি নির্মাণের কাজ করাচ্ছিলেন। শুক্রবার সকালে সেই প্রকল্পের আনুমানিক ২০০ গজ দূর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ওসি মাহবুবে আরও বলেন, ওই নারীর ছেলে আনোয়ার গত ১১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ফোনে আমাদের জানায়, তার মাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, বাসার দরজা খোলা। পরে রাত ৯টার দিকে তার মেয়ে সাদিয়া এসেও মাকে বাড়িতে পাননি। পরে রাতে সাদিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

অধ্যাপক সাইদা যে বাসায় ভাড়া থাকতেন সে বাড়ির মালিক মোশারফ হোসেন মৃধা বলেন, ছেলে ও তার স্ত্রীকে নিয়ে ৮-৯ মাস আগে আমার বাড়ির দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। উনার এক ছেলে ও তিন মেয়ে। ছেলে ঢাকার একটি বেসরকারি ব্যাংকের ম্যানেজার। দুই মেয়ে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী। আরেক মেয়ে ঢাকায় থাকেন। ম্যাডাম ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন। একটা বিদেশি কুকুর পোষতেন। মাঝেমধ্যে তার ছেলে ও ছেলের স্ত্রী আসতেন।পানিশাইল এলাকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক প্রকল্পের সিকিউরিটি ইনচার্জ জয়নাল আবেদিন বলেন,বাড়ির কাজ দেখাশোনার জন্য প্রকল্পের পাশে বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন তিনি।
ঘটনার নেপথ্যে লুটপাট-

ঘটনার নেপথ্যে অধ্যাপিকার বাসা থেকে নগদ টাকা লুটপাটের তথ্য পেয়েছে পুলিশ। আনোয়ার হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া এসব তথ্যের বরাত দিয়ে ওসি মাহবুব-এ খোদা জানান, আনোয়ার তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে ১১ জানুয়ারি নিহত অধ্যাপকের বাসায় লুটপাট করে তাঁকে গলাটিপে হত্যা করেন। পরে মির্জাবাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি জঙ্গলের ভেতরে নিয়ে লাশ ফেলে দেয়।ওসির মতে, অধ্যাপক সাঈদা গাফ্ফারের বাড়ি থেকে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা লুটপাট করে নেওয়া হয়েছে। আরও কী কী মালামাল নেওয়া হয়েছে, তা বের করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

কাশিমপুরে মামলা দায়ের

এদিকে সাইদা খালেককে হত্যার ঘটনায় তাঁর ছেলে সাউদ ইফতেখার জহির বাদী হয়ে আটক আনোয়ারুল ইসলামকে আসামি করে কাশিমপুর থানায় হত্যা মামলা করেছেন। সাউদ ইফতেখার বলেন, ‘আম্মার হত্যার বিষয়ে আমাদের কোনো ধারণা নেই। পুলিশ তদন্ত করছে।’ তিনি জানান, আজ বাদ এশা বনানী ১২ নং বাইতুন নুর জামে মসজিদে সাইদা খালেকের জানাজার নামাজ শেষে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

 

 

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Back to top button