লাইফ স্টাইল

তরমুজ কেজিতে কেন!

 

লাবণ্য চৌধুরী : কথায় বলে ডান্ডার ওপর ওষুধ নাই। কারণ, অনেক সময় দেখা যায় কোনো ঘটনায় আইন শৃঙ্খরা বাহিনী ডান্ডা মারলে সব ঠান্ডা হয়ে যায়। একই অবস্থা সৃষ্ঠি হয়েছে এবার তরমুজের বেলায়। পিস দরে কেনা তরমুজ বিক্রি করা হচ্ছে কেজি দরে। এই কেজি দরে তরমুজ বিক্রি নিয়ে এখনো কোনো আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, ভোক্তা অধিদফতর বা জেলা প্রশাসনের কোনো ম্যাজিষ্ট্রেট অভিযান চালায়নি তরমুজ বিক্রির পয়েন্টগুলিতে। ফলে দেদারছে পাল্লা কিনে কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করে রীতিমত প্রকাশ্যে ডাকাতি করছে তরমুজ ওলারা।

এর আগে গত কয়েক বছর প্রশাসনের পক্ষে পিস তরমুজ কেজিতে বিক্রি করার সময় হাতেনাতে ধরে জরিমানা করা হয়েছিল। কিন্তু এবার রাজধানীসহ দেশের কোথাও এখনো কোনো অভিযান না চালানোয় তরমুজওলারা পকেট কাটছে নিরীহ ক্রেতাদের। সরেজমিনে খোঁজ নিতে গেলে অনেকে বলেছেন তারা কেজিতে কিনে এনেছেন। কিন্তু রশিদ চাইলে দেখাতে পারেন না। অর্থাৎ তারা যে ভোক্তা সাধারনের পকেট প্রকাশ্য কাটছে তা বোঝাই যাচ্ছে। কিন্তু প্রশাসন এখনো নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে। নেই কোনো মনিটরিং এর ব্যবস্থা।

সরেজমিনে জানা গেছে, তরমুজ বিক্রেতারা কিনে আনছে পিস প্রতি হিসেবে আর বেশী লাভের আশায় তা বিক্রি করছে পাল্লায় মেপে। এতে দেখা গেছে পিস প্রতি তরমুজে লাভ হচ্ছে দুইশ থেকে আড়াইশ টাকা। পাইকারী আড়তে পিস প্রতি তরমুজ এর দাম পড়ে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। অথচ তা বিক্রি হচ্ছে সাড়ে তিনশ থেকে চারশ টাকায়। এতে ক্ষেত্র বিশেষে প্রতি পিস তরমুজে লাভ হচ্ছে আড়াইশ থেকে সাড়ে তিনশ টাকা।ক্ষেত্র ভেদে বাজারে ফলের দাম চড়া। ফলের দোকানগুলোতে মৌসুমি ফলের সমাহার চোখে পড়ার মতো হলেও দাম আকাশছোঁয়া। পিস হিসেবে কেনা তরমুজ কেজিদরে বিক্রি করে বিক্রেতারা পিসপ্রতি লাভ করছেন ২০০-৩৫০ টাকা। রমজান মাসে ইফতারিতে ফলের চাহিদা থাকে বেশি। আর এই মাসকে সামনে রেখেই বাজারে বেড়েছে ফলের দাম। বিশেষ করে তরমুজের দামে দেখা যাচ্ছে বড় রকমের অসংগতি।

রাজধানীর ফলের পাইকারি বাজার বাদামতলীতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এখানে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে পিস হিসেবে। মূলত ১০০ পিস তরমুজকে বেঞ্চমার্ক ধরে তরমুজ বেচাকেনা হয়ে থাকে।বাজারে প্রতি পিস ১০-১২ কেজি ওজনের তরমুজ ১০০ পিস বিক্রি হচ্ছে ৩৩-৩৫ হাজার টাকায়। ৪-৫ কেজি ওজনের তরমুজ ১০০ পিস বিক্রি হচ্ছে ৮-১০ হাজার টাকা। তার থেকে একটু বড় তরমুজ ১০০ পিস বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ হাজার টাকা।এদিকে রমজানের সুযোগ নিয়ে খেজুরের দাম বেড়েছে কেজিতে ৫০-১০০ টাকা!

আড়ত থেকে পিস হিসেবে তরমুজ কিনলেও খুচরা ব্যবসায়ীরা তরমুজ বিক্রি করছেন কেজিদরে। ১০-১২ কেজি ওজনের তরমুজের কেজি খুচরাই বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা। এ হিসাবে ১০ কেজির একটি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকায়, অথচ খুচরা ব্যবসায়ীরা এই তরমুজ কিনছেন সাড়ে তিনশ টাকার মধ্যে। আবার ৪-৫ কেজি ওজনের ১০০ পিস তরমুজ ৮-১০ হাজার টাকায় কিনে খুচরা ব্যবসায়ীরা বিক্রি করছেন ৪০-৫০ টাকা কেজিদরে। এতে ৫ কেজির একটি তরমুজের দাম খুচরা পর্যায়ে পড়ছে ২০০-২৫০ টাকা। অথচ আড়ত থেকে খুচরা ব্যবসায়ীরা এই তরমুজ কিনছেন ১০০-১২০ টাকা দিয়ে।

ওদিকে গত বছরের তুলনায় কেজিপ্রতি তরমুজের দাম এক লাফে দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। গত মৌসুমে তরমুজের কেজি ছিল ৩০-৪০ টাকা। সেখানে চলতি মৌসুমে তরমুজের দাম ৫০-৬০ টাকা। স্থানভেদে কোথাও কোথাও ৭০ টাকা কেজিদরেও তরমুজ বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়াও বাদামতলীতে আপেলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০-১৪০ টাকার মধ্যে। মাল্টা বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকার মধ্যে। একইভাবে কমলা ১২০-১৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি করছেন আড়তদাররা। লাল আঙুরের কেজি ১৬০-১৮০ টাকা ও সবুজ আঙুরের কেজি ১২০-১৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাদামতলীতে এসব ফল খুচরা বিক্রি হচ্ছে না। এই বাজারটি থেকে ফল কিনতে হলে কার্টুন ধরে কিনতে হয়।

 

 

 

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Back to top button