জাতীয়

আলুর রাস্তা অবরোধ!

রংপুর প্রতিনিধি :  এবার আলু ঢেলে রাস্তা অবরোধ করলো কৃষকরা। দাম না পাওযায় রাস্তায় আলু ঢেলে রংপুরের কৃষকরা প্রতিবাদ করেছে। আলুর ন্যায্য দাম নিশ্চিত করাসহ বিদেশে রপ্তানির দাবি জানিয়েছে রংপুরের আলুচাষিরা। দাবি আদায়ে সড়কে আলু ফেলে প্রতিবাদ ও অবরোধ করেছে তারা। এর ফলে রংপুর-কুড়িগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়।
আলু চাষীরা বলেছে, সব শেষ হয়ে গেছে ভাই আলু চাষ করে। বড় বড় পাইকারি ব্যবসায়ীরা কম দামে আলু কিনে বেশি দামে বিক্রি করছে। জমি থেকে আলু কিনে লাভবান হচ্ছে বড় বড় ব্যবসায়ীরা। কিন্তু আমরা নিঃস্ব। আলুর ন্যায্য দাম নিশ্চিত এবং বিদেশে রপ্তানির দাবিতে রাস্তায় আলু ফেলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন রংপুরের কৃষকরা। সোমবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে রংপুর মহানগরীর সাতমাথা কুড়িগ্রাম -রংপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে প্রতিবাদ জানান কৃষকরা।

আন্দোলনকারী কৃষকদের অভিযোগ, এবার কেজিপ্রতি আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে ১২ থেকে ১৩ টাকা।কিন্তু মাঠ পর্যায়ে আলু বিক্রি হচ্ছে আট থেকে ১০ টাকা কেজিতে। আর এত কম দামে বিক্রি করলে লোকসান গুনতে হচ্ছে আলু চাষীদের।আজ বেলা ১১টা থেকে প্রায় ১ ঘণ্টা রাস্তা অবরোধ করে রাখেন তারা।প্রতিবাদকারীদের মধ্যে একজন কৃষক নরুল ইসলাম বলেন, দেশ ভোজ্য তেল চিনি ডাল সহ সব কিছুর দাম বেশি। কিন্তু আলুর দাম অনেক কম, আলু চাষ করে লোকসান গুনতে হচ্ছে।

মহানগরীর মাহিগঞ্জ এলাকার কৃষকরা রেজাউল করিম বলেন, চাষিদের হাতে কিছুই নেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে। সব শেষ হয়ে গেছে আলু চাষ করে। বড় বড় পাইকারি ব্যবসায়ীরা কম দামে আলু কিনে বেশি দামে বিক্রি করছে। জমি থেকে আলু কিনে লাভবান হচ্ছে বড় বড় ব্যবসায়ীরা।
কৃষক সোহেল রানা বলেন, এখান থেকে সরাসরি বিদেশসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আলু সরবরাহ করা হোক। তা না হলে আগামী বছর থেকে আলু চাষ করা থেকে বিরত থাকব। আর সরকার যদি বিদেশে রপ্তানির সুযোগ তৈরি করে তাহলে লোকসান থেকে রক্ষা পাবে কৃষক।
ওদিকে সড়কে আলু ফেলে সড়ক অবরোধ করার সময় রংপুর নগরসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার চাষি ও ব্যবসায়ীরা একত্রিত হয়ে মাহিগঞ্জ এলাকায় বিক্ষোভ করেন।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আকমল হোসেন জানান, এবার রংপুর জেলায় রেকর্ড ৫১ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। যা গতবারের তুলনায় প্রায় ২ হাজার হেক্টর বেশি। তবে রংপুরে যে আলু চাষবাদ হয়, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিদেশে এ আলুর চাহিদা নেই। কারণ আমাদের উৎপাদিত আলুর বেশির ভাগ আকারে ছোট। এ কারণে আমরা উন্নত জাতের বীজ সরবারহ এবং কৃষকদের প্রশিক্ষিত করে এবার বিদেশে আলু রপ্তানি শুরু করতে সক্ষম হয়েছি। এখন যেভাবে বিভিন্ন দেশ থেকে আলু কেনার চাহিদা বাড়ছে, তাতে করে এবার রংপুর থেকে আলু রপ্তানির পরিমাণ ৫০ হাজার টনের কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটু  বলেন, সারা দেশে চাহিদার ২৫ ভাগ আলুর জোগান দেয় রংপুর বিভাগ। তাই রংপুর বিভাগ থেকে আলু রপ্তানির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সরকার। বর্তমানে বিশ্বের অন্তত ১০টি দেশে রংপুরের আলু রপ্তানি হচ্ছে। বিদেশিদের চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখে উত্তম পদ্ধতিতে রংপুরে উন্নত আলুর চাষাবাদ করা হচ্ছে। দেশের উদ্বৃত্ত প্রতিটি ফসল বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং কৃষকদের ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি।

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Back to top button