লিড নিউজ

টাকা পাচারকারী আরো ৩ বাংলাদেশী হেদায়েত-রুমি সাইফুল্লাহ-শান্তি

 

 

বিশেষ প্রতিনিধি : প্যান্ডোরা পেপার্সের নয়া তালিকায় আরো ৩ বাংলাদেশী টাকা পাচারকারীর হদিস মিলেছে। এরা হচ্ছে হেদায়েত-রুমি সাইফুল্লাহ ও শান্তি। বিশ্বের এ যাবৎ কালের সবচেয়ে বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি প্যান্ডোরা পেপার্সের চূড়ান্ত তালিকায় আরও ৩ বাংলাদেশির নাম উদঘাটন করেছে ওয়াশিংটনভিত্তিক অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়াম ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস (আইসিআইজে)। মঙ্গলবার রাতে এই তালিকা প্রকাশ করেছে তারা। এই বাংলাদেশিদের আর্থিক গোপনীয়তার আশ্রয়স্থল ব্যবহার করে সম্পত্তি কেনা-বেচা, সম্পদ লুকানো, কর ফাঁকি এবং বিচারিক কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি এড়িয়ে কোম্পানি বা ব্যাংকিং খাত এবং অন্যান্য ব্যবসায় বিনিয়োগ রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

প্যান্ডোরা পেপার্সের চূড়ান্ত তালিকায় বাংলাদেশের যাদের নাম রয়েছে, তারা হলেন— এস হেদায়েত উল্লাহ, এস রুমি সাইফুল্লাহ এবং শাহেদা বেগম শান্তি। প্রথম দুই বাংলাদেশি হংকংয়ে ট্রান্সগ্লোবাল কনসাল্টিং নামে একটি প্রতিষ্ঠানে গোপন বিনিয়োগ করেছেন। এবারের তালিকায় আসা বাংলাদেশের প্রথম দু’জনের নাম কিছুটা ঘুরিয়ে উল্লাহ এস. হেদায়েত ও সাইফুল্লাহ এস. রুমি নামেও এসেছে। এছাড়া শাহেদা বেগম শান্তির বিনিয়োগ রয়েছে জাস লিমিটেড নামের একটি অফশোর কোম্পানিতে।

আইসিআইজের তথ্য অনুযায়ী, এস হেদায়েত উল্লাহ, এস রুমি সাইফুল্লাহ ঢাকার বারিধারা ডিওএইচএসের নর্দার্ন রোডের একটি বাসায় বসবাস করেন। আর শাহেদা বেগম শান্তি সিলেটের শাহজালাল এলাকার বাসিন্দা।গত ৩ অক্টোবর প্রথম দফায় বিশ্বের প্রভাবশালী এবং ধনাঢ্য ব্যক্তিদের পেশাদার সেবা দিয়ে নামমাত্র কর অথবা করবিহীন ব্যবসা ও সম্পদ কেনার কাজে সহায়তা করেছে এমন ১৪টি কোম্পানির ১ কোটি ২০ লাখ গোপনীয় আর্থিক দলিলপত্র বিশ্লেষণ করে তথ্য ফাঁস করা হয় প্যান্ডোরা পেপার্সে। সেই সময় আব্দুল আওয়াল মিন্টু নামের এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে প্যান্ডোরা পেপার্সে পাওয়া যায়। তিনি নেপাল থেকে ব্যবসা পরিচালনা করেন বলে জানানো হয়।

বিশ্বের সাবেক ও বর্তমান ৩৫ রাষ্ট্রপ্রধান, ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের ৩ শতাধিক রাজনীতিক ও সামরিক কর্মকর্তা এবং প্রায় ১৩০ জন ধনকুবেরের গোপন সম্পদ ও লেনদেনের তথ্য ফাঁস হয়েছে প্যান্ডোরা পেপার্সে। এটি ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ আর্থিক গোপনীয় দলিলপত্র ফাঁসের ঘটনা।

এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও রাজনীতিকদের অফশোর কোম্পানি ব্যবহার করে গোপনে বিদেশে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ার তথ্য হাজির করা হয়েছে।কীভাবে ব্যাংক এবং আইনি সংস্থাগুলো জটিল কর্পোরেট কাঠামো নকশা করার জন্য অফশোর পরিষেবাদানকারীদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে প্যান্ডোরা পেপারস তদন্তে সেসবও উন্মোচিত হয়েছে। নথিপত্রে দেখা যায়, প্রশ্নবিদ্ধ লেনদেনে জড়িত ব্যক্তিদের সাথে ব্যবসা না করার ব্যাপারে আইনগত বাধ্যবাধকতা সত্ত্বেও অফশোর কোম্পানিগুলো সেবাদানকারী গ্রাহকদের সবসময় চেনে না।

একই বছরের ৬ ডিসেম্বর আর্থিক কেলেঙ্কারির দ্বিতীয় দফায় প্রকাশিত প্যান্ডোরা পেপার্সের তালিকায় ৮ বাংলাদেশির নাম উঠে আসে। সেই সময় প্যান্ডোরা পেপার্সের গোপনীয় আর্থিক দলিলপত্রে বলা হয়, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে নিবন্ধিত কোম্পানির মালিক ওই ৮ বাংলাদেশি। এ নিয়ে প্যান্ডোরা পেপার্সে মোট ১১ বাংলাদেশির নাম এল।

দ্বিতীয় দফায় প্রকাশিত প্যান্ডোরা পেপার্সের তালিকায় নিহাদ কবীর নামের এক বাংলাদেশি নারী ব্যবসায়ীর নাম পাওয়া যায়। রাজধানী ঢাকার ইন্দিরা রোডে তার একটি বাসা রয়েছে বলে নথিতে বলা হয়। ক্যাপিটাল ফেয়ার হোল্ডিংস লিমিটেড নামে ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে তার মালিকানাধীন একটি কোম্পানি রয়েছে। ২০০৮ সালের আগস্টে ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে অফশোর কোম্পানি হিসেবে এটি নিবন্ধিত হয়।

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Back to top button