লিড নিউজ

শ্যাডো অব বাহারে মেয়র রিফাত-এবার প্রমোশন দরকার বাহারের

কুমিল্লা থেকে শফিক রহমান / সাইফুল বারী মাসুম : ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের মন জয় করেই এবার ভোটের হিসাব পাল্টে দিলেন রিফাত। এই জয়ের নেপথ্যে কাজ করেছেন সংসদ সদস্য (এমপি) আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। কারণ, কুমিল্লায় অনেক মন্ত্রী থাকলেও বাহারের জনপ্রিয়তা রিফাতের পক্ষে কাজ করেছে। যেটা আজ বুধবার সকালে তিনি বলেছেন, নৌকার বিজয় হবেই হবে। কারণ, নৌকাকে বিজয়ী করতে শ্যাডো বাহারই যথেষ্ট। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে আমাকে এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। আমি প্রার্থীদের পক্ষে কোনো জনসংযোগ করিনি, প্রচারেও ছিলাম না। তবুও তারা আমাকে চিঠি দিয়েছে। পক্ষান্তরে তাদের চিঠি নৌকার প্রার্থীর জন্য উপকারই হয়েছে। কারণ এই চিঠির পর কুমিল্লার মানুষ একজোট হয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করেছে।

যাহোক, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে নৌকার প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ১০৫ কেন্দ্রে তিনি ৫০ হাজার ৩১০ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী টেবিল ঘড়ি প্রতীকের মনিরুল হক সাক্কু পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৯৬৭ ভোট। ফলে ৩৪৩ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন রিফাত। এছাড়া মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন ঘোড়া প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৯ হাজার ৯৯ ভোট।বুধবার (১৫ জুন) রাত সাড়ে নয়টার দিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহেদুন্নবী চৌধুরী বেসরকারি এ ফল ঘোষণা করেন।

এর আগে কুমিল্লা নগরীর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন থেকে বিকেল ৫টায় ফলাফল ঘোষণা শুরু করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। প্রথম থেকেই ফলাফলে একবার রিফাত এগিয়ে ছিলেন, আরেকবার সাক্কু এগিয়ে ছিলেন। প্রায় চার ঘণ্টার ফল ঘোষণার সময়ে একেকবার ফলাফল একেকজনের দিকে হেলে পড়ে।তীব্র উত্তেজনার মধ্যে ১০১টি কেন্দ্রের ফল ঘোষণার পর দেখা যায় মনিরুল হক সাক্কু ৬ শতাধিক ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। ঠিক সেই মুহূর্তে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় ফল ঘোষণা। ফলাফল ঘোষণার কেন্দ্রে তখন দুই প্রার্থীর সমর্থকেরাই বিজয় মিছিল করতে থাকেন এবং নিজ নিজ প্রার্থীর জয় হয়েছে বলে দাবি করতে থাকেন।

এসময় হলজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, দেখা দেয় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেক চেষ্টা করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছিলেন না।তবে শেষ পর্যন্ত প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।এরপর খুব দ্রুত চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করে দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। অল্প সময়ের ওই ঘোষণায় একবারেই ১০৫ কেন্দ্রের ফল ঘোষণা করে দেন তিনি। সেখানে কেবল প্রার্থীদের চূড়ান্ত ভোট সংখ্যা এবং ব্যবধান উল্লেখ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এরপর তিনি নৌকার প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন বলে ঘোষণা করেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ঘোষিত বেসরকারি এ ফল প্রত্যাখ্যান করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু। তাঁর দাবি, শেষ মুহূর্তে ফলাফল পাল্টে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সাক্কু দাবি করেন, তাদের নিজেদের হিসাবে কেন্দ্র থেকে আসা ফল অনুযায়ী টেবিল ঘড়ি প্রতীক ৯৮০ ভোটে নৌকার চেয়ে এগিয়ে আছে। এ ব্যাপারে তিনি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে আজ সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডের ১০৫টি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোট নেওয়া হয়।

কুসিকের ২৭টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার ২ লাখ ২৯ হাজার ৯২০ জন। এদের মধ্যে ১ লাখ ১৭ হাজার ৯২ জন নারী ভোটার এবং পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১২ হাজার ৮২৬ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার দুজন।নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন তিন প্রার্থী। তারা হলেন আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকার প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত, বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা সাবেক মেয়র স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু এবং বিএনপির আরেক বহিষ্কৃত নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার।

ওদিকে ভোটে হেরে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন টানা দুইবারের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু।ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আরফানুল হক রিফাতের কাছে ৩৪৩ ভোটে হেরে সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় সাক্কু বলেন, আমার বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।দুই ঘণ্টা ফলাফল আটকে রাখা হলো। এটা গায়ের জোরে আটকে রাখা হলো। এখন আমি আইনি প্রক্রিয়ায় যাব।তিনি আরও বলেন,আমার কাছে ফলাফলের কাগজ আছে। এটা অন্যায়। এর মাধ্যমে প্রমাণ হলো নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা দেখাতে পারেনি।

বুধবার রাতে বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে রিফাত পেয়েছেন ৫০ হাজার ৩১০ ভোট। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু (টেবিল ঘড়ি প্রতীক) পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৯৬৭ ভোট।বুধবার সকাল ৮টায় ভোট শুরু হয়ে শেষ হয় বিকাল ৪টায়। উৎসবমুখর পরিবেশেই স্থানীয় সরকারের এই ধাপের নির্বাচন হয়েছে। দিনভর ভোটগ্রহণ শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে স্থাপিত ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র থেকে কেন্দ্রভিত্তিক ফল ঘোষণা শুরু হয়। এই নির্বাচনে মোট কেন্দ্র সংখ্যা ১০৫টি, ভোটার ২ লাখ ২৯ হাজার ৯২০ জন।

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Back to top button