নারী ও শিশু

ভ্রুণ হত্যা মামলায় নারী সমাজসেবা কর্মকর্তার ঘুষ দাবিতে তোলপাড়

 

স্টাফ রিপোর্টার : ভ্রুণ হত্যা মামলায় নারী সমাজসেবা কর্মকর্তার ঘুষ দাবিতে তোলপাড় চলছে রংপুর সমাজসেবা দফতরে। ওই কর্মকর্তার ঘুষ দাবির অডিও ফাঁস হলে গঠিত তদন্তে সত্যতা মিলেছে। জানা গেছে, রংপুর সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শিখা রানী রায়ের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তির কাছে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা একটি মামলার তদন্তের জন্য বাদীর কাছ থেকে ঘুষ চেয়েছেন ওই কর্মকর্তা। এ–সংক্রান্ত একটি অডিও ফাঁস হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে করা তদন্তেও ঘটনার সত্যতা মিলেছে।

তদন্তে ঘটনার সত্যতা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট হওয়ার কথা উল্লেখ করে সমাজসেবা অধিদপ্তর রংপুরের উপপরিচালক আবদুল মতিন বলেন, তদন্তে ১০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার সত্যতা পেয়েছেন তাঁরা। অডিও ক্লিপেও ঘটনার সত্যতা মিলেছে। টাকাগুলো ওই কর্মকর্তার টেবিলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার পাশাপাশি বিষয়টি আদালতকে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

ফাঁস হওয়া ৪৪ সেকেন্ডের অডিওতে ভুক্তভোগীর পরিচয় দিয়ে একজন পুরুষ তদন্ত প্রতিবেদন কবে দেবেন, তা জানতে চান। অন্য প্রান্তে নারী কণ্ঠে একজনকে বলতে শোনা যায়, যত তাড়াতাড়ি আমাদের সন্তুষ্ট করতে পারবেন, তত তাড়াতাড়ি রিপোর্ট পাবেন। এ সময় পুরুষ কণ্ঠে আরও বলা হয়, ‘যে ১০ হাজার দিয়েছি, তা দিয়েই কাজটা করে দেন।’ তখন নারী কণ্ঠে বলা হয়, ‘দেখি অফিসে গিয়ে আগে কথা বলি…।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী গৃহবধূর বরাত দিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের সরকারি কৌঁসুলি রফিক হাসনাইন জানান, পাঁচ বছর আগে রংপুর সদর উপজেলার বাঁশকাটা গ্রামের বাসিন্দা ও মহানগর পুলিশে কর্মরত কনস্টেবল ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে ভুক্তভোগী ওই নারীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর মোটরসাইকেল কিনে দেওয়াসহ কিছু টাকা যৌতুক দাবি করেন স্বামী ইসমাইল। কিন্তু টাকা দিতে না পারায় তিনি স্ত্রীর ওপর নির্যাতন শুরু করেন। এরই মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন ওই গৃহবধূ। এ অবস্থায়ও ওই গৃহবধূকে মারধর করেন ইসমাইল। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাঁকে নগরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর গর্ভপাত হয়। চিকিৎসা চলাকালে স্বামী ইসমাইল ওই গৃহবধূর কোনো খোঁজখবর না নেওয়ায় সুস্থ হয়ে তিনি বাবার বাড়ি চলে যান।

মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী গৃহবধূ জানান, এ ঘটনায় চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি রংপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-১-এ স্বামী ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে যৌতুক দাবি ও ভ্রূণ হত্যার অভিযোগে মামলা করেন তিনি। মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শিখা রানী রায়কে নির্দেশ দেন আদালত। কিন্তু দীর্ঘ পাঁচ মাস তাঁর কাছে ধরনা দিয়েও প্রতিবেদন দিচ্ছিলেন না শিখা রানী।

তিনি প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ঘুষ দাবি করলে তাঁর দরিদ্র বাবা ১০ হাজার টাকা জোগাড় করে তাঁকে দেন। কিন্তু গত বুধবার তাঁর বিপক্ষে আদালতে প্রতিবেদন দেন শিখা রানী। এদিন বিকেলে তাঁর বাবা ও ভাই ঘুষের টাকা ফেরত নিতে উপজেলা পরিষদে গেলে তাঁদের লাঞ্ছিত করে তাড়িয়ে দেন শিখা রানী ও তাঁর কার্যালয়ের কর্মচারীরা। এ ছাড়া চিকিৎসকের মতামত ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য না নিয়েই শিখা রানী আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন বলে অভিযোগ করেন ওই গৃহবধূ।

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Back to top button