লিড নিউজ

আইএমএফ ঋণ নিতে দরকষাকষি করেছি-অর্থমন্ত্রী

 

অর্থনৈতিক রিপোর্টার : আগে না করলেও, এখন প্রয়োজন হয়েছে বলেই আইএমএফের কাছে অর্থ চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বুধবার ক্রয় কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা জানান অর্থমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, সহজ শর্তে ঋণ পেতেই সংস্থাটির কাছে আবেদন করা হয়েছে।

৯ দিনের সফরে ১৪ জুলাই ঢাকায় আসে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের একটি প্রতিনিধিদল। সেই সময় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছিলেন, এই মুহূর্তে আইএমএফের কাছ থেকে কোনো অর্থ সহায়তা নেয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু গেলো রোববার বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে উঠে এসেছে, আইএমএফের কাছে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণের জন্য আবেদন করেছে বাংলাদেশ।

সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে, বুধবার দুপুরে অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী জানান, এখন আমাদের ঋণের দরকার, তাই আইএমএফের কাছে অর্থ চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি আগে জানানো হলে সংস্থাটির সঙ্গে বিভিন্ন শর্ত নিয়ে দর-কষাকষির সুযোগ পাওয়া যেত না বলেও জানান তিনি।অর্থমন্ত্রী বলেন, সে সময় যদি বলি আমাদের টাকা দরকার, তখন তারা টাকা দিলেও ইন্টারেস্ট রেট বাড়ানোর সম্ভাবনা থাকে। তখন আমরা একটু ভাব দেখাইছি। এটা দেশের স্বার্থে করা হয়েছে। ঋণ নিলে সবার জানার অধিকার আছে। আমার কাজ হচ্ছে তার ব্যাখ্যা দেয়া।

তিনি বলেন, আমরা বিশ্বব্যাংকের কাছে যাব, জাইকায় যাব, সব জায়গায় সব সময় চেষ্টা করি আমাদের যে ঋণ প্রয়োজন তা ভালো ইন্টারেস্টে ও ভালো শর্তে নিতে। আইএমএফ টিম এখানে এসেছিল, তারা প্রতিবছরই আসে। তারা অ্যানুয়াল কনসালটেশন করে, সে জন্য তারা এসেছে।অর্থমন্ত্রী আরো জানান, ডলার সংকট মোকাবিলায় যেসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা দ্রুতই কাজে আসবে।

তিনি বলেন, কিছু অসাধু প্রতিষ্ঠান কারসাজি করে দাম বাড়িয়ে পণ্য আমদানি করছে। এসব অনিয়ম বন্ধে কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি আরো বলেন, এ সংকট সমাধানে একটু সময় লাগবে। এক্সপোর্ট বাড়ছে, রেমিট্যান্সও বাড়ছে। গত বছর রেমিট্যান্স কিছুটা কম হলেও চলতি অর্থবছর আশা করছি ভালো রেমিট্যান্স পাব। রেমিট্যান্স ও এক্সপোর্টের মাধ্যমেই ডলারের চাহিদা মেটানো হবে।

এদিকে, বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব আহমদ কায়কাউস জানিয়েছেন, যেকোনো অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে অর্থ সহায়তা নেয়া একটি চলমান প্রক্রিয়া। এর সঙ্গে বেইলআউটের কোনো সম্পর্ক নেই।আইএমএফ প্রতিনিধিদলটি এবারের ঢাকা সফরে ব্যাংক খাতে ৯-৬ শতাংশ সুদহার তুলে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। এর জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, এই সুদহার থাকার করার কারণেই দেশের ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে।

 

 

 

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Back to top button