লিড নিউজ

পৃথিবীতে বিপর্যয় এসেছে এটাই শেষ না আরও আসতে পারে-

বিশেষ প্রতিনিধি : প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেছেন, গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় আপাতত এলএনজি আমদানিই ভরসা। আজ মঙ্গলবার জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, পৃথিবীর মধ্যে বিপর্যয় এসেছে, এটাই শেষ না আরও আসতে পারে। উন্নত দেশও তাদের জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে। জার্মানি পুরনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করছে। আমরা যখন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করলাম, পরিবেশবাদীরা বলল পরিবেশ শেষ করে দিলাম।
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রযুক্তি উন্নত প্রযুক্তি এতে পরিবেশের ক্ষতি হবে না। অনেকে শতাংশ বলেন, শতকরা জিনিসটা ব্যবহার করবেন না। জার্মানিতে ৬০ হাজার, আমেরিকায় ২ লাখ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কয়লা দিয়ে উৎপাদন করা হচ্ছে।

সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, বঙ্গবন্ধু যখন গ্যাস ফিল্ডগুলো কিনেছিলেন সেই সময়কার আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় অনেক টাকা। এমন একটি সাহসী সিদ্ধান্ত পাওয়া যায় কেবল দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতার কাছ থেকে। কেউ কিন্তু খাদ্য না কিনে গ্যাস ফিল্ড কিনেছিলেন। তখন কিন্তু গ্যাসের তেমন ব্যবহারও ছিল না।চলমান সংকট মোকাবিলার ব্যাপারে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি সকলে একসঙ্গে ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারি, তাহলে অবশ্যই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারব। আমাদের প্রচুর সম্পদ রয়ে গেছে, সেগুলো নিয়ে যদি কাজ করতে পারি অবশ্যই মোকাবিলা করতে পারবো। দ্বিধাদ্বন্দে না থাকিয়ে কাজে ঝাপিয়ে পড়তে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে জ্বালানি বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, ‘জ্বালানি খাতকে অস্থিতিশীল করতে একটি পক্ষ সক্রিয়। তারা এখনও অপচেষ্টায় লিপ্ত। কোনো কথায় বিভ্রান্ত না হয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করবেন। অবশ্যই সঠিক তথ্য পাবেন।’বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব হাবিবুর রহমান বলেন, ‘জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। রেলসহ পরিবহন সেক্টর বিদ্যুতের আওতায় আনা গেলে আমদানি নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হবে।’

সভায় পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শিতার কারণে এখনও আমরা এসব গ্যাস ফিল্ড থেকে ৩৫ শতাংশ গ্যাস পাচ্ছি। বঙ্গবন্ধুর পথ অনুসরণ করে বর্তমান সরকারও দেশীয় গ্যাস আহরণে কাজ করে যাচ্ছে। দেশীয় গ্যাস ফিল্ডের উন্নয়নের জন্য প্রথম প্রয়োজন সার্ভে, সে লক্ষ্যে সার্ভে কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।’

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেগম ওয়াসিকা আয়শা খান, বিপিসির চেয়ারম্যান এবিএম আজাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন, এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার ম্যাগাজিনের সম্পাদক মোল্লাহ এম আমজাদ হোসেন, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।

 

 

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button