আন্তর্জাতিক

ভারত বাংলাদেশের ‘পরীক্ষিত বন্ধু’ এএনআই-সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা

 

বিশেষ প্রতিনিধি : শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক ভারত সফর উপলক্ষ্যে সংবাদ সংস্থা এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভারত বাংলাদেশের ‘পরীক্ষিত বন্ধু’। আমরা আমাদের ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় তাদের অবদানের কথা সবসময় মনে রাখি। এমনকি ১৯৭৫ সালে, যখন আমার পরিবারের সকল সদস্যকে হারালাম, তখন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী (ইন্দিরা গান্ধি) আমাদের ভারতে আশ্রয় দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কাজেই ভারত বাংলাদেশের একমাত্র পরীক্ষিত বন্ধু। আজ রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনালকে (এএনআই) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কাল সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভারত সফরে যাচ্ছেন প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর এ সফর ব্যাপক তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে আঞ্চলিক সহযোগীতা, পানি বন্ঠন, সীমান্ত সমস্যা, যোগাযোগসহ বিভিন্ন নীতি নির্ধারনী বিষয় এ সফরে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বন্ধুপ্রতিম দু’দেশের জন্য।

সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, আমরা প্রতিবেশী দেশ, ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী; এবং আমি সবসময় আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার দেই।রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘর্ষের পর পূর্ব ইউরোপে আটকে পড়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উদ্ধারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেওয়া উদ্যোগের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, আমি সত্যিই প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই; রাশিয়া ও ইউক্রেনের মাঝে এই যুদ্ধের সময় আমাদের অনেক শিক্ষার্থী সেখানে আটকে পড়েছিল, আশ্রয়ের জন্য তারা পোল্যান্ডে চলে গিয়েছিল। কিন্তু আপনি যখন ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনলেন, তখন তাদের সঙ্গে আমাদের শিক্ষার্থীরাও বাড়ি ফিরেছে আসলো। আপনি সত্যিই স্পষ্টভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব দেখিয়েছেন। আমি এই উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।এছাড়া, ‘ভ্যাকসিন মৈত্রী’ কর্মসূচির অধীনে প্রতিবেশী দেশগুলোতে কোভিড-১৯ টিকা প্রদানের জন্যও ভারত সরকারের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। আগামীকাল সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভারত সফরে যাচ্ছেন প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার একদিন আগে এএনআই’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।

এ সময় তিনি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে আলোচনার মাধ্যমে এগুলো সমাধান করা উচিত।আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মাননীয় রাষ্ট্রপতির প্রতি। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের সময় তারা দুজনেই বাংলাদেশ সফর করেছেন। সে সময় করোনা মহামারি চলছিল, তারপরও তারা এসেছিলেন এবং আমাদের জনগণকে সম্মানিত করেছিলেন। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্ব সব সময়ের। বাংলাদেশকে প্রথম দিকেই স্বীকৃতি দিয়েছিল ভারত। কাজেই এটি আমাদের অগ্রাধিকারে থাকবে, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

 

 

 

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Back to top button