অপরাধ

শত কোটি টাকা পাচারকারী আলেশা মার্ট মনজুরুলের বাটপারি-দুই মামলা

কোর্ট রিপোর্টার : শত কোটি টাকা পাচারকারী ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলেশা মার্টের চেয়ারম্যান মনজুরুল আলম শিকদার নয়া বাটপারি শুরু করেছেন। অভিযোগ করা হয়েছে ২৫০ কোটির অধিক টাকা বিদেশে পাচার করেছে আলেশা মার্ট। এদিকে আলেশা মার্ট গ্রাহকদের টাকা না দিয়ে ফেসবুকে ফেক আইডি দিয়ে ছড়াচ্ছে যে তারা টাকা ফেরত দিচ্ছে। একই টাকার বান্ডেল বিভিন্ন ‘ফেক ফেসবুক’ আইডি থেকে পোস্ট করা হচ্ছে। সকল টাকার বান্ডেলের সিরিয়ালের নম্বর একই, যার স্ক্রিনশট ইতোমধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

অভিযোগ উঠেছে কানাডা পালাচ্ছেন আলেশা মার্টের চেয়ারম্যান এই বাটপার মনজুরুল। কানাডার বেগমপাড়ায় বাড়ি কেনার তথ্যও মিলেছে। আগের গ্রেফতারি পরওয়ানা বহাল থাকলেও ফের দুই মামলায় ওয়ান্টেড তিনি। এবার তার বিরুদ্ধে চেক প্রতারণার অভিযোগে ঢাকার আদালতে দুটি মামলা হয়েছে। আজ বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতাউল্লাহর আদালতে আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে মনজুরুল আলম সিকদারকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেছেন বলে বাদীপক্ষের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ২০২১ সালে টাকা না দেওয়ায় ১৮ মে আলেশা মার্টের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম শিকদারের বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগী গ্রাহক আবু সাঈদ। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ২৮ জুনের মধ্যে তাকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। কিন্তু হাজির না হওয়ায় ৩০ জুন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিক আলেশা মার্টের মঞ্জুরুল আলমের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

একটি মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বাদী গত বছর ৫ ও ৭ জুন তিনটি মোটরসাইকেল কেনার জন্য অর্ডার দেন। কিন্তু পরে অর্ডার করা মোটরসাইকেল দিতে ব্যর্থ হয়ে আসামি বাদীকে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের গুলশান করপোরেট শাখায় আলেশা মার্টের নামে থাকা ৪ লাখ ২৩ হাজার টাকার দুটি চেক প্রদান করেন। সেই চেক নগদায়নের জন্য গত ২০ জুন বাদীর নিজ নামীয় ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক ইব্রাহিমপুর শাখায় জমা দিলে তা ডিজঅনার হয়। এরপর ১৭ জুলাই আসামির প্রতি লিগ্যাল নোটিশ ইস্যু করা হলেও টাকা না পাওয়ায় এই মামলা করেন।

আরেক মামলার অভিযোগে বলা হয়, একই বাদী গত বছর ২৪ জুন তিনটি মোটরসাইকেল ক্রয়ের অর্ডার দেন। অর্ডার করা মোটরসাইকেল দিতে ব্যর্থ হয়ে আসামি বাদীকে তাঁর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান আলেশা অ্যাগ্রো লিমিটেডের নামে ইসলামী ব্যাংক বনানী শাখার অ্যাকাউন্টের ৩ লাখ ৫২ হাজার টাকার একটি চেক প্রদান করেন। চেকটি নগদায়নের জন্য ২৮ জুলাই বাদীর নিজ নামের ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক ইব্রাহিমপুর শাখায় জমা দিলে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় তা ডিজঅনার হয়। এরপর টাকা পরিশোধে ৩ সেপ্টেম্বর আসামির প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। এতেও ফল না পেয়ে বাদী আদালতে এই মামলা করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আলেশা মার্ট বিভিন্ন মাধ্যমে চটকদার ও লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অন্যান্য ই কমার্স প্রতিষ্ঠানের মালিকরা গ্রেফতার হলেও মনজুরুল সবাইকে ম্যানেজ করে বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

বিজ্ঞাপনে ৪৫ কার্য দিবসে পণ্য দেওয়ার কথা থাকলেও তা না দিয়ে এবং পরবর্তীতে গ্রাহকের টাকা ফেরতেও গড়িমসি করছে আলেশা মার্ট। যতই দিন যাচ্ছে গ্রাহকরা ততই আশা হারাচ্ছে। কারণ, অতীতে যুবক থেকে শুরু করে ডেসটিনি, এইমওয়ে, ইউনিপে-২, আর সম্প্রতি ধামাকা শপিং, ই-অরেঞ্জ, কিউকম, ইভ্যালি পর্যন্ত কোনো গ্রাহকই তার টাকা সঠিকভাবে ফেরত পায়নি। যাদের পেমেন্ট গেটওয়েতে টাকা আটকা ছিল তারা ছাড়া আর কেউ টাকা পেয়েছে কিনা জানা নেই। তবে গ্রাহকের টাকা দিতে না পারলেও ৪-৫টা বিলাস-বহুল গাড়ি চালাচ্ছেন আলেশা মার্টের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম শিকদার ও তার পরিবার।

সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ই-কমার্সের আড়ালে প্রতারণা করে যাচ্ছে ‘আলেশা মার্ট’। ব্যবসা শুরুর মাত্র তিন মাসের মাথায় সরকারের চার কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। এনবিআরের একটি টিম তদন্ত করে রাজস্ব ফাঁকির এসব তথ্য উদঘাটন করেছে। আলেশা মার্ট গ্রাহকদের টাকা না দিয়ে ফেসবুকে ফেক আইডি দিয়ে ছড়াচ্ছে যে তারা টাকা ফেরত দিচ্ছে। একই টাকার বান্ডেল বিভিন্ন ‘ফেক ফেসবুক’ আইডি থেকে পোস্ট করা হচ্ছে।

সকল টাকার বান্ডেলের সিরিয়ালের নম্বর একই, যার স্ক্রিনশট ইতোমধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। যা নিয়ে অনেক গ্রাহক তাদের ফেসবুকে স্ট্যাটাসও দিয়েছেন।এক গ্রাহক তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে অভিযোগ করে বলেন, ‘আলেশা মার্ট টাকা না দিয়ে ফেসবুকে ফেক আইডি দিয়ে ছড়াচ্ছে যে টাকা দিচ্ছে…’। আবার অনেক গ্রাহকই অভিযোগ করে বলছেন- ‘একই টাকার বান্ডেল বিভিন্ন ফেক ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট করা হচ্ছে।’ কেননা সকল টাকার বান্ডেলের সিরিয়ালের নম্বর একই, যার স্ক্রিনশট ইতোমধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Back to top button