অর্থনীতিনারী ও শিশু

ব্যাংক-নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে চায় না : বাণিজ্যমন্ত্রী

 

বিশেষ প্রতিনিধি : বাংলাদেশে নারী উদ্যাক্তাদের এগিয়ে যাওয়া খুবিই কঠিন ব্যাপার; তাদেরকে লোন দিতে ৯৯ শতাংশ ব্যাংকেরই অনিহা দেখা যায় বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। শনিবার সন্ধ্যায় উইমেন এন্ট্রাপ্রেনিয়ার্স নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বা ওয়েন্ড’র পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও আন্তর্জাতিক নারী উদ্যোক্তা দিবস-২০২২ উপলক্ষ্যে শুলশান শুটিং ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন তিনি। এসময় নারী উদ্যোক্তরা ঋণ খেলাপী হয় না উল্লেখ করে তাদেরকে ঋণ দিতে ব্যাংকের প্রতি আহ্বানও জানান টিপু মুনশি।

টিপু মুনশি বলেন, ‘নারীদের যে সামর্থ্য, সাহস ও যোগ্যতা আছে তাতে ফাইন্যান্সিয়াল ব্যাক-আপ পেলে তারা ব্যবসায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ অংশগ্রহণ করতে পারবে।’ব্যাংক থেকে নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ দেয়া হলে অন্তত চিন্তা করতে হবে না। তারা টাকা নিয়ে অন্যদের মতো পালিয়ে যাবে না। আমি নিশ্চিত করতে পারি যে মেয়েদের লোন দেয়ার পর ৯৯ শতাংশ ভালোভাবে ফিরে আসবে।
আন্তর্জাতিক নারী উদ্যোক্তা দিবস নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠন উইমেন এন্ট্রোপ্রেনার্স নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্ট (ওয়েন্ড) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ওয়েন্ডের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীও এই আয়োজনের আরেকটি উপলক্ষ ছিল।টিপু মুনশি বলেন, ‘আমাদের নারীদের সাপোর্ট দেয়া উচিত। মেয়েদের চলার পথ সহজ হবে না। কিন্তু সাহস করে তাদের এগিয়ে যেতে হবে। বাইরের দেশের মেলাগুলোতে অন্তত ৫০ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা যেন থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে।

‘অনেক নারীরই অভিযোগ, মার্কেট এক্সেসে তাদের সুবিধা অনেক কম। এই সুবিধাটা তাদের পাইয়ে দিতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, নারীদের যে সামর্থ্য, সাহস ও যোগ্যতা আছে তাতে ফাইন্যান্সিয়াল ব্যাক-আপ পেলে তারা ব্যবসায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ অংশগ্রহণ করতে পারবে।অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআই সভাপতি জসীম উদ্দিন বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। তারা যেন সহজে ঋণ পেতে পারে সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে এফবিসিসিআই আলোচনা করছে। তারা যেন একটি স্পেশাল সাপোর্ট দেয়-এফবিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে নতুন উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক সহায়তা দেয়ার জন্য একটি উইং খোলা হয়েছে। সেই উইংয়ে সব তথ্য পাওয়া যাবে। আমরা ইনোভেশন এবং নতুন ডিজাইন তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছি।’

ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি বলেন, ব্যবসা করার জন্য নারীরা যেন সহজে ব্যাংক ঋণ পান সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। সম্প্রতি আমি চট্টগ্রাম, হিলট্যাক্ট ও রাঙ্গামাটি ভ্রমণে গিয়েছিলাম। সেখানে অনেক নারী বলেছেন, তাদের ব্যবসার অনেক আইডিয়া আছে। কিন্তু তাদের মালিকানায় কোনো জমি নেই। তাই তারা ব্যাংকে জমি মর্টগেজ দিতে পারছেন না। ফলে ঋণও পাচ্ছেন না। এই বিষয়গুলোর সমাধান করতে হবে।

ওয়েন্ড সভাপতি ড. নাদিয়া বিনতে আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেপুটি হেড অফ ডেলিগেশন ড. বার্নড স্পেনিয়ার, ইউএসএআইডি ফিড দ্য ফিউচার বাংলাদেশ ট্রেড অ্যাক্টিভিটির চিফ অফ পার্টি মার্ক শাইম্যান ও এক্সপোর্ট রেডিনেস ফান্ড (ইআরএফ) কর্মসূচির টিম লিডার ডেত রাঙ্গানাইকালু।অনুষ্ঠানে নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়ার জন্য বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোকে (ইপিবি) ‘বিশেষ নারী ক্ষমতায়ন পুরস্কার’ দেয় ওয়েন্ড। ইপিবির ভাইস চেয়াম্যান এ এইচ আহসানের হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

 

 

 

 

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button